সমন্বয় জাবেদা

  সমন্বয় জাবেদা

সমন্বয় জাবেদা


সমন্বয় জাবেদা

  1. সমন্বয় জাবেদা বই অনুসরে।

  1. সমন্বয় জাবেদা ঢাকা কলেজ অনুসরে।



সমন্বয় জাবেদা বই অনুসরে।

কটি ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানের আয়ূষ্কালকে কতিপয় ক্ষুদ্র ও সমান সময়খণ্ডে ভাগ করে নেওয়া হয়। এ ক্ষুদ্র সময়খণ্ডকে হিসাবকাল বলে। একটি হিসাবকালের সঠিক নিট লাভ বা ক্ষতি নির্ণয় করতে হলে এবং হিসাবকাল শেষে সঠিক আর্থিক অবস্থার বিবরণী প্রস্তুত করতে হলে চলতি হিসাবকালের রাজস্বের সাথে শুধু চলতি হিসাবকালের খরচের মিলকরণ করতে হবে। অর্থাৎ শুধু চলতি হিসাবকালের রাজস্ব থেকে চলতি হিসাবকালের খরচ বাদ দিতে হবে। রাজস্ব বা খরচের মধ্যে যদি বিগত বা আগামী হিসাবকালের কোনো আয় বা ব্যয় থাকে তা সংশ্লিষ্ট রাজস্ব বা খরচের থেকে বাদ দিতে হবে। অন্যদিকে চলতি হিসাবকালের যদি কোনো রাজস্ব বা খরচ বকেয়া থাকে তা সংশ্লিষ্ট রাজস্ব বা খরচের সাথে যোগ করতে হবে। অর্থাৎ একটি হিসাবকালের সঠিক রাজস্ব বা খরচ নির্ণয় করার জন্য অগ্রিম ও বকেয় রাজস্ব বা খরচগুলো সমন্বয় করার জন্য যে জাবেদা দাখিলা দেওয়া হয় তাকে সমন্বয় দাখিলা বলে। সাধারণত হিসাবকাল শেষে রেওয়ামিলের পর ও আর্থিক বিবরণী প্রস্তুতের পূর্বে সমন্বয় জাবেদা প্রদান করা হয়। সাধারণত


হিসাবকাল নীতি ও মিলকরণ নীতি সমন্বয় জাবেদাকে প্রভাবিত করে থাকে।


সমন্বয় জাবেদার প্রকারভেদ

সমন্বয় জাবেদার প্রকারভেদ
সমন্বয় জাবেদার প্রকারভেদ








অর্থ প্রদান করা হয়েছে কিন্তু এখন পর্যন্ত সেবা নেওয়া হয়নি এমন খরচকে অগ্রিম খরচ বলে। অথবা চলতি হিসাবকালে অর্থ প্রদান করা হয়েছে কিন্তু এর সুবিধা আগামী হিসাবকাল বা কালসমূহে পাওয়া যাবে এমন অর্থ প্রদানকে অগ্রিম খরচ বলে। যেমন: অগ্রিম বেতন, অগ্রিম ভাড়া, অগ্রিম বিমা সেলামি প্রভৃতি ।

চলতি হিসাবকালে অর্থ পাওয়া গেছে কিন্তু এর সুবিধা আগামী হিসাবকাল বা কালসমূহে প্রদান করা হবে এমন প্রাপ্তিকে অগ্রিম রাজস্ব বলে। যেমন- অগ্রিম

শিক্ষানবিশ সেলামি, অগ্রিম সেবা রাজস্ব, অগ্রিম ভাড়া প্রাপ্তি প্রভৃতি। 

সেবা বা পণ্য ক্রেতাকে হস্তান্তর করা হয়েছে কিন্তু প্রতিদান হিসাবে। 
অর্থ বা অন্য কোনো সম্পদ পাওয়া না গেলে তাকে বকেয়া রাজস্ব বলে। যেমন-ধারে বিক্রয় ও বিনিয়োগের সুদ বকেয়া, ধারে সেবা প্রদান করা প্রভৃতি।


সেবা গ্রহণ বা পণ্য ক্রয় করা হয়েছে কিন্তু চলতি হিসাবকালে প্রতিদান দেওয়া হয়নি এমন সেবা গ্রহণকে বকেয়া ব্যয় বলে। যেমন- বকেয়া বেতন, বকেয়া ভাড়া, ধারে পণ্য ক্রয়, বকেয়া মজুরি প্রভৃতি।

অগ্রিমসমূহের সমন্বয় জাবেদা-


i. অগ্রিম রাজস্ব


উপ-ভাড়া ২,০০০ টাকা অগ্রিম পাওয়া গেছে। নগদে অগ্রিম উপ-ভাড়া পাওয়া গেলে দুটি পদ্ধতিতে একজন

হিসাবরক্ষক হিসাবভুক্ত করতে পারেন। যথা- 


ক. দায় পদ্ধতি ।


খ. আয় পদ্ধতি ।


ক. দায় পদ্ধতি


এ পদ্ধতিতে অগ্রিম রাজস্ব নগদে পাওয়া গেলে নিম্নলিখিত জাবেদা দেওয়া হয়:

দায় পদ্ধতি


এরপর সমন্বয়ে বলা হয় যে, উপ-ভাড়া অগ্রিম আছে ৮০০ টাকা। সেক্ষেত্রে রেওয়ামিলে অগ্রিম উপ-ভাড়া ২,০০০ টাকা দায় থেকে ৮০০ টাকা দায় রাখতে হলে অগ্রিম উপ-ভাড়া (২,০০০ – ৮০০) = ১,২০০ ( দায়) টাকা কমাতে

হবে। আর এ ১,২০০ টাকা কারবারের রাজস্ব হয়েছে। সুতরাং উপ-ভাড়া রেওয়ামিলে অগ্রিম হিসাবে হিসাবভুক্ত

থাকলে সেক্ষেত্রে দায় কমাতে হবে ও রাজস্ব বাড়াতে হবে। ফলে সমন্বয় জাবেদা হবে:

দায় পদ্ধতি



খ. আয় পদ্ধতি


এ পদ্ধতিতে উপ-ভাড়া যখন পাওয়া গেছে তখন উপ-ভাড়াকে রাজস্ব হিসাবে হিসাবভুক্ত করা হতে পারে তখন

জাবেদা হবে:

আয় পদ্ধতি


ii. অগ্রিম খরচ


বেতন ৫,০০০ টাকা অগ্রিম প্রদান করা হয়েছে। এ লেনদেনটি একজন হিসাবরক্ষক দুটি পদ্ধতিতে হিসাবভুক্ত করতে পারেন। যথাঃ 

ক. সম্পত্তি পদ্ধতি (Assets method); 
খ. খরচ পদ্ধতি (Expenses method )

ক. সম্পত্তি পদ্ধতি 


এ পদ্ধতিতে বেতন প্রদান করার সময় বেতনকে সম্পত্তি হিসাবে হিসাবভুক্ত করা হয়।

জাবেদা হবে:



উপরিউক্ত জাবেদার মাধ্যমে অগ্রিম বেতনকে সম্পত্তি হিসাবে হিসাবভুক্ত করা হয়েছে। এ অগ্রিম বেতনকে রেওয়ামিলে সম্পত্তি হিসাবে দেখানো হবে।


এরপর সমন্বয়ে বলা হলো অগ্রিম বেতন ৩,০০০ টাকা। এখন অগ্রিম বেতন ৫,০০০ ৩,000 = 2,000 টাকা কমাতে হবে অর্থাৎ অগ্রিম বেতন ২,০০০ টাকা দ্বারা ক্রেডিট করতে হবে এবং বেতন হিসাব ২,০০০ টাকা বায় হিসাবে ডেবিট করতে হবে।

সমন্বয় জাবেদ



খ. ব্যয় পদ্ধতি


আবার বেতনকে ব্যয় হিসেবে নিম্নলিখিত পন্থায় জাবেদাভুক্ত করা যায়:


এখানে বেতনকে খরচ হিসেবে হিসাবভুক্ত করা হলো এবং রেওয়ামিলে তা নিলিখিত পন্থায় উপস্থাপন করা হলো:



সমন্বয় জাবেদ

 


সমাপ্ত



ঢাকা কলেজ



সমন্বয় জাবেদা


সমাপনী মজুদ সংক্রান্ত জাবেদা:

সমাপনী মজুদ পণ্য একদিকে প্রতিষ্টান এর সম্পদ এবং অন্য দিকে প্রতিষ্ঠানের ক্রয় করা পণ্যের ব্যয়-হ্রাসের মাধ্যমে আয় সূচিত হয়। তার জন্য সমাপনী মজুদ পণ্য হিসাব ডেবিট এবং ক্রয় হিসাব ক্রেডিট হবে।

যেমন: 

১. সমাপনী মুজুদ পণ্য মূল্যায়ান করা হয়েছে ২০,০০০ টাকা।

সমন্বয়-জাবেদা 

সমাপনী মুজুদ পণ্য হিসাব - ডেবিট - ২০,০০০ টাকা
ক্রয় হিসাব - ক্রেডিট - ২০,০০০ টাকা

২. ধারে পণ্য ১০,০০০ টাকা যা হিসাবভুক্ত হয়নি এবং সমাপনী মজুদেও অন্তর্ভুক্ত হয়নি।


সমন্বয়-জাবেদা

ক্রয় হিসাব - ডেবিট - ১০,০০০ টাকা 
প্রদেয় হিসাব - ক্রেডিট - ১০,০০০ টাকা

(যেহেতু ধারে ক্রয় হিসাব ভুক্ত করা হলো। )


সমাপনী মজুদ পণ্য হিসাব ডেবিট ১০,০০০ টাকা
ক্রয় হিসাব - ডেবিট - ১০,০০০ টাকা

(যেহেতু ধারে ক্রয় সমাপনী মজুদে অন্তর্ভুক্ত করা হলো।)


৩. সমাপনী মুজুদ পণ্য ২০,০০০ টাকা মূল্যায়ান করা হয়েছে। এর মধ্যে ২,০০০ টাকার পন্য আগুনে বিনষ্ট হয়েছে।

সমন্বয়-জাবেদা

সমাপনী মুজুদ পণ্য হিসাব - ডেবিট - ২০,০০০ টাকা
ক্রয় হিসাব - ক্রেডিট - ২০,০০০ টাকা

আগুনে বিনষ্ট হিসাব - ডেবিট - ২,০০০ টাকা
ক্রয় হিসাব - ক্রেডিট - ২,০০০ টাকা

বা,

সমন্বয়-জাবেদা

সমাপনী মুজুদ পণ্য হিসাব - ডেবিট - ১৮,০০০ টাকা
আগুনে বিনষ্ট হিসাব - ডেবিট - ২,০০০ টাকা
ক্রয় হিসাব - ক্রেডিট - ২০,০০০ টাকা


৪. সমাপনী মুজুদ পণ্য  ২০,০০০ টাকা মূল্যায়ান করা হয়েছে ।এর মধ্যে ২,০০০ টাকার পন্য আগুনে বিনষ্ট হয়েছে এর থেকে বীমা কম্পানি ১,৫০০ টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে রাজি হয়েছে।


সমন্বয়-জাবেদা

সমাপনী মুজুদ পণ্য হিসাব - ডেবিট - ১৮,০০০ টাকা
ক্রয় হিসাব - ক্রেডিট - ১৮,০০০ টাকা

আগুনে বিনষ্ট হিসাব - ডেবিট - ৫০০ টাকা
বীমা দাবি - ডেবিট - ১,৫০০ টাকা
ক্রয় হিসাব - ক্রেডিট - ২,০০০ টাকা

কারন: 

মোট আগুনে বিনষ্ট হয়েছে ২,০০০ টাকা - বীমা দাবি ১৫,০০ টাকা = মোটা ক্ষতি হয়েছে ৫,০০ টাকা।

আগুনে বিনষ্ট হয়েছে তার কারনে ২০,০০০ টাকা থেকে ২,০০০ টাকা বাদ দিতে হবে।  আমাদের কাছে এখন ১৮,০০০ থাকবে এই পরিমাণ পন্য এখনো আছে।



৫. সমাপনী মুজুদ পণ্য  ২০,০০০ টাকা মূল্যায়ান করার পর এর মধ্যে ২,০০০ টাকার পন্য আগুনে বিনষ্ট হয়েছে এর থেকে বীমা কম্পানি ১,৫০০ টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে রাজি হয়েছে।

সমন্বয়-জাবেদা

সমাপনী মুজুদ পণ্য হিসাব - ডেবিট - ১৮,০০০ টাকা
ক্রয় হিসাব - ক্রেডিট - ১৮,০০০ টাকা

আগুনে বিনষ্ট হিসাব - ডেবিট - ৫০০ টাকা
বীমা দাবি - ডেবিট - ১,৫০০ টাকা
ক্রয় হিসাব - ক্রেডিট - ২,০০০ টাকা


কারন:

মূল্যায়ন করার পর থাকার কারণে 

সমাপনী মজুদ পণ্য মূল্যায়ান করার সময় তার মূল ছিলো ২০,০০০ টাকা। তার পরে ২,০০০ টাকা আগুনে বিনষ্ট হয়েছে। এর মানে আগে সমাপনী মজুদ পণ্য মূল্যায়ান হয় পরে আগুনে বিনষ্ট হয় । 😉 কোন পরিবর্তন হবে জাবেদা ☺️ ৪ নং এর মতোই থাকবে।

. সমাপনী মুজুদ পণ্য ২০,০০০ টাকা মূল্যায়ান করার পূর্বে এর মধ্যে ২,০০০ টাকার পন্য আগুনে বিনষ্ট হয়েছে এর থেকে বীমা কম্পানি ১,৫০০ টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে রাজি হয়েছে।


সমন্বয়-জাবেদা

সমাপনী মুজুদ পণ্য হিসাব - ডেবিট - ২০,০০০ টাকা
ক্রয় হিসাব - ক্রেডিট - ২০,০০০ টাকা

আগুনে বিনষ্ট হিসাব - ডেবিট - ৫০০ টাকা
বীমা দাবি - ডেবিট - ১,৫০০ টাকা
ক্রয় হিসাব - ক্রেডিট - ২,০০০ টাকা


কারন:

২,০০০ টাকা আগুনে বিনষ্ট হয়েছে। তার পর সমাপনী মজুদ পণ্য মূল্যায়ান করার হয় ২০,০০০ টাকা। 

তার কারনে বর্তমানে কত টাকা সমাপনী মজুদ পণ্য রয়েছে বলোতো?

ঠিক ২০,০০০ টাকা থাকবে। কারন: সমাপনী মজুদ পণ্য হিসাব তো আগুনে বিনষ্ট হওয়ায় পর হিসাব বা গননা হয়েছে।



Twitter বা LinkedIn আমাদের অনুসরণ করুন. আমাদের অন্য পোস্ট দেখুন
 আমাদের ইমেল ঠিকানায় অভিযোগ করুন।


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ